বুধবার , ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Wednesday , 04 February 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

নজরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০১:২৭, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শমশেরনগর গলফ মাঠ

শমশেরনগর গলফ মাঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত শমশেরনগর গলফ কোর্স চা বাগানের স্নিগ্ধতা আর ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ। ইতিহাস যা বলছে, স্থানীয়রা ভালোভাবে জানবেন। এই গলফ কোর্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে। মূলত চা বাগানের ব্রিটিশ ম্যানেজারদের বিনোদনের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশরা তাদের কাজের ফাঁকে অবসরের জন্য বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় এ ধরনের ক্লাব এবং গলফ কোর্স গড়ে তুলত।

​শমশেরনগর গলফ কোর্সের ইতিহাসের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ​১৯৪২-১৯৪৩ সালের দিকে শমশেরনগরে একটি বিশাল সামরিক বিমানঘাঁটি তৈরি করা হয়। ​এই বিমানঘাঁটিটি মিত্রবাহিনীর (বিশেষ করে আমেরিকান এবং ব্রিটিশ বিমানবাহিনী) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ​জনশ্রুতি আছে যে, যুদ্ধের সময় এখানে অবস্থানরত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারাও এই গলফ মাঠটি ব্যবহার করতেন।

​সংস্কার ও আধুনিকায়ন ​দেশভাগের পর এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দীর্ঘকাল এটি অবহেলিত ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ​প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে রাখা এটি দেশের অন্যতম সুন্দর এবং গলফ কোর্স হিসেবে পরিচিত, এর চারপাশ জুড়ে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান। এটি কেবল গলফ খেলার স্থান নয়, বরং পর্যটকদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় জায়গা। 

একটি গলফ মাঠ বা যেকোনো খেলার মাঠকে যথাযথ কারণ না দর্শিয়ে বিনষ্ট করা বা ধ্বংস করা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। যেকোনো পাবলিক বা প্রাইভেট স্পেস, যা মানুষের বিনোদন ও শারীরিক চর্চার কাজে ব্যবহৃত হয়, তার পেছনে সামাজিক গুরুত্ব থাকে। খেলার মাঠ বা গলফ কোর্স শুধু মাটির টুকরো নয়; এটি মানুষের মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক মেলামেশার একটি কেন্দ্র। হঠাৎ করে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া এটি বন্ধ করে দিলে স্থানীয় জনমানুষের প্রাত্যহিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ​​গলফ মাঠ বা বড় খেলার মাঠগুলো শহরের আশেপাশে 'সবুজ ফুসফুস'  হিসেবে কাজ করে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এই সবুজ ধ্বংস করলে পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতি হয়। ​একটি নির্দিষ্ট খেলার জন্য তৈরি অবকাঠামো ধ্বংস করা মানে হলো সেই খেলার সাথে জড়িত খেলোয়াড় বা আগ্রহীদের উৎসাহকে মেরে ফেলা। যথাযথ কারণ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত খেলাধুলার প্রতি অনীহা তৈরি করে।

​যেকোনো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের জানানো এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা একটি নৈতিক দায়িত্ব। যথাযথ কারণ না দেখানো মানে হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ পাওয়া, যা আধুনিক সমাজব্যবস্থায় কাম্য নয়।

পরিশেষে, ​যদি উন্নয়নের স্বার্থে বা অনিবার্য কোনো প্রয়োজনে মাঠটি অন্য কাজে ব্যবহার করতেই হয়, তবে তার জন্য ​সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। ​বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বা ক্ষতিপূরণমূলক মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
​জনগণের মতামতের গুরুত্ব থাকতে হবে। ​যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো সম্পদ ধ্বংস করা কেবল অপচয়ই নয়, বরং সামাজিকভাবেও এটি একটি ভুল পদক্ষেপ।

জায়গার মালিক তার নিজস্ব জায়গায় তার নিজস্ব পরিকল্পনা অঙ্কন করতে পারেন। যেহেতু মাঠটি গলফ মাঠ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত সেখান থেকে ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়েছে। জায়গার মালিক কর্তৃপক্ষ এই মাঠের সুবিধা ভোগী স্থানীয়দের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে আমি মনে করছি। বা যেকোনো খেলার মাঠকে যথাযথ কারণ না দর্শিয়ে বিনষ্ট করা বা ধ্বংস করা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়