সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Monday , 16 February 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

নজরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন বড় বিজয়, তেমনি এটি একটি কঠিন পরীক্ষা

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন বড় বিজয়, তেমনি এটি একটি কঠিন পরীক্ষা

ক্ষমতা হলো এমন এক চাবিকাঠি যা দিয়ে সম্মান, সম্পদ এবং নিরাপত্তা—তিনটিই অর্জন করা যায়। আর এই তিনটির লোভ বা অভাব মানুষকে মারামারির দিকে ঠেলে দেয়। ​বিখ্যাত দার্শনিক টমাস হবস বলেছিলেন, মানুষের জীবন হলো "Power after power, that ceaseth only in death." অর্থাৎ, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয় না।

 একটি নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Absolute Majority) অর্জন করা সংসদীয় গণতন্ত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি যেমন দলকে শক্তিশালী অবস্থানে বসায়, তেমনি জনগণের পক্ষ থেকে তৈরি করে পাহাড়সম প্রত্যাশা।  নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন এবং এর প্রেক্ষিতে জাতির প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। 

​যখন কোনো একটি দল সংসদেমোট আসনের অর্ধেকের বেশি (সাধারণত ৫০% + ১) আসন এককভাবে লাভ করে, তখন তাকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলে। এর ফলে:
​অন্য কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই সরকার গঠন করা যায়।
​সরকার অত্যন্ত স্থিতিশীল হয়; জোট সরকারের মতো হুট করে পতনের ভয় থাকে না। ​গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস এবং নীতি নির্ধারণে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় না।

​যখন একটি জাতি কোনো দলকে বিপুল জনম্যান্ডেট দেয়, তখন তাদের প্রত্যাশা থাকে মৌলিক পরিবর্তনের। ​জনগণ আশা করে, যেহেতু সরকারের কোনো "অস্তিত্ব রক্ষার সংকট" নেই, তাই তারা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা দুর্নীতির সাথে আপস করবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জাতির প্রথম দাবি।

​অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জীবনযাত্রার মান
​দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের প্রথম চাওয়া থাকে বাজার দর হাতের নাগালে রাখা ।​কর্মসংস্থান,বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের প্রত্যাশা থাকে।
​আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা করা ইত্যাদি।

​বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই ক্ষমতার অপব্যবহার নয়। জাতি আশা করে ​বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
​ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে। ​পুলিশ ও প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করবে। কাঠামোগত ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন
​টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সংস্কার এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রত্যাশা থাকে জনগণের।

​ ক্ষমতার ভারসাম্য ​নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক সময় সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব তৈরি করতে পারে। বিরোধী দল দুর্বল থাকায় সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার লোক থাকে না। তাই জনগণের প্রত্যাশা থাকে যে, সরকার নিজেই নিজের ওপর একটি "নৈতিক নিয়ন্ত্রণ" রাখবে এবং জনস্বার্থ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

​নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য যেমন বড় বিজয়, তেমনি এটি একটি কঠিন পরীক্ষা। এটি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বরং জনগণের দেওয়া এক বিশাল আমানত। এই আস্থার প্রতিফলন তখনই ঘটে যখন সরকার দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো জাতির সেবক হিসেবে কাজ করে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ও মান দায়িত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী দেশের জনসাধারণ তাদের উপরই অর্পিত করেছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়