শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
Friday , 10 July 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

জাতীয়

প্রকাশিত: ২৩:২৪, ৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ-চীনের জি-টু-জি চুক্তি, গ্রামীণ উন্নয়নে খুলছে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ-চীনের জি-টু-জি চুক্তি, গ্রামীণ উন্নয়নে খুলছে নতুন দিগন্ত

কৃষি, সার সরবরাহ, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ। 

বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষি গবেষণা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, মৎস্য উন্নয়ন, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ। পাশাপাশি বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং স্কলারশিপ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও সম্মতি হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ডিএপি সার সরবরাহ চুক্তির দ্রুত নবায়ন। চীনা প্রতিনিধি দল জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মৌসুমে সরকারি সার সংগ্রহ শুরুর আগেই চুক্তি নবায়ন করা জরুরি। কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করা হবে, যাতে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ফুজিয়ানের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, কাঁকড়ার হ্যাচারি, অ্যাকুয়াকালচার, মাছ চাষ, সৌরচালিত সেচ এবং উপকূলীয় লবণাক্ত জমি উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। চীনা প্রতিনিধি দল এসব খাতে প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ফুজিয়ান সফর করবে। সফরে কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সম্প্রসারিত জি-টু-জি অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়