নেত্রকোনায় ছাত্রদলের কমিটিতে ‘আওয়ামী ঘনিষ্ঠ’নেতাকে পদ দেওয়ার অভিযোগ
আওয়ামীলীগ থেকে খোলস বদলে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল-যুবদলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ‘পুনর্বাসন’ এর অভিযোগ উঠেছে নানা সময়। এবার তারই অংশ হিসেবে নেত্রকোনা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আওতাধীন নেত্রকোনা সদর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলেও, স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন জাকারিয়া খান রিজন এর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীম এর যৌথ স্বাক্ষরে সম্প্রতি এই দুইটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৃণমূল ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রাখতেই নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পেলেন
নেত্রকোনা সদর উপজেলা ছাত্রদল:
সভাপতি: গোলাম রাব্বী
সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন খান পাঠান
নেত্রকোনা পৌর ছাত্রদল:
সভাপতি: রাজন হোসেন
সাধারণ সম্পাদক: আশরাফুল ইসলাম দ্বীপ
সিনিয়র সহ-সভাপতি: জাকারিয়া খান রিজন
নতুন কমিটি প্রকাশ্যে আস্তেই সিনিয়র সহ-সভাপতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে জাকারিয়া খান রিজন-এর নাম আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দুঃসময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন না। বরং তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, জাকারিয়া খান রিজন নেত্রকোনার সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী-র ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার মাধ্যমেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।
রবিন(ছদ্ম নাম) নামে অপর একজন বলেন, “আমরা তাকে কখনো বিএনপির রাজনীতি করতে দেখিনি। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এমনকি ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের মাত্র ১ মাস আগে, আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ‘জয় বাংলা কনসার্টে’ তাকে গান গাইতেও দেখা গেছে।”
পদবঞ্চিত পৌর ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু পদ দেওয়া হলো বিতর্কিত ব্যক্তিদের। পৌর ছাত্রদলে অনেক ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী এক জেলা বিএনপি নেতার ইশারায় তাদের বাদ দিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে এই কমিটি করানো হয়েছে।”
তিনি অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।





































